Popunder-1

Friday, July 31, 2026

চালু হচ্ছে জনপ্রিয় ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল।

পেপ্যাল হলো বিশ্বব্যাপী অনলাইনে নিরাপদ লেনদেন ও অর্থ স্থানান্তর করার একটি জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় ব্যাংকগুলো পেপ্যাল বা সমমানের আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবার সাথে যুক্ত হয়ে ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল লেনদেন ও সেবা চালুর সুযোগ পাচ্ছে।


পেপ্যালের একাউন্ট তৈরি, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নতুন ফ্রেমওয়ার্ক কিংবা ফ্রিল্যান্সিং পেমেন্ট পদ্ধতি সেবাটি সম্পর্কে বিস্তারিতঃ


পেপ্যাল কি অলরেডি বাংলাদেশে চালু হয়ে গেছে? না, পেপ্যাল এখনও বাংলাদেশে সরাসরি তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করেনি।


বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখে কেবল একটি "ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী ফ্রেমওয়ার্ক" (Bank-Intermediated Framework) বা আইনি নীতিমালা জারি করেছে। এর অর্থ হলো বাংলাদেশ সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক পেপ্যালের মতো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়েগুলো বাংলাদেশে আসার আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছে।বাস্তব পরিস্থিতিটি নিচে দেওয়া হলো:


বর্তমান অবস্থা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে: বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী এখন দেশীয় ব্যাংকগুলো পেপ্যাল বা পায়োনিয়ারের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে।


পেপ্যালের বক্তব্য: পেপ্যাল অফিশিয়ালি জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের মূল সেবা চালু নিয়ে এই মুহূর্তে শেয়ার করার মতো নতুন কোনো আপডেট তাদের কাছে নেই। তবে তাদের সহযোগী রেমিট্যান্স সেবা Xoom ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে চালু রয়েছে।


প্রস্তুতি চলছে: বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের একটি বিশেষ কমিটি পেপ্যালকে বাংলাদেশে আনার জন্য আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।এই ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে সেবাটি যখন চালু হবে তখন যেভাবে কাজ করবে:


ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (DVA): গ্রাহকরা সরাসরি স্বাধীন পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করে, স্থানীয় ব্যাংকের অধীনে একটি ডিজিটাল ওয়ালেট বা DVA অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।


ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ: নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যাংকের মূল সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত থাকবে।


লেনদেনের সীমা: ফ্রিল্যান্সারদের টাকা আনার পাশাপাশি ছোটখাটো অনলাইন কেনাকাটার জন্য প্রতি ট্রানজেকশনে সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত খরচ করা যাবে। 


#বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নীতিমালার ও সার্কুলার অনুযায়ী, ফ্রিল্যান্সারদের টাকা আনা এবং ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (DVA) ব্যবহারের নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:


১. নতুন নিয়মে ফ্রিল্যান্সাররা যেভাবে টাকা আনতে পারবেন বাংলাদেশ ব্যাংক ফ্রিল্যান্সারদের রেমিট্যান্স আনার প্রক্রিয়া অনেক সহজ করেছে: 


ডিজিটাল প্রমাণপত্র গ্রহণ: টাকা তোলার জন্য এখন আর কোনো কাগজের ডকুমেন্টের প্রয়োজন নেই। মার্কেটপ্লেসের স্টেটমেন্ট, ইমেইল ইনভয়েস বা মেসেজ দেখালেই ব্যাংক টাকা রিলিজ করে দেবে।


ডিক্লেয়ারেশন ছাড়া সর্বোচ্চ সীমা: ছোট আকারের লেনদেনের জন্য কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা (Formal Declaration) ছাড়াই একবারে সর্বোচ্চ ২০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা যাবে।


গেটওয়ে ট্রানজেকশন লিমিট: অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারদের (OPGSPs) মাধ্যমে প্রতি ট্রানজেকশনে সর্বোচ্চ ১০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেশে আনা যাবে।


ডলার আয়ের অংশ জমা রাখা: আইসিটি (ICT) খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আয়ের সর্বোচ্চ ৫০% এবং অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকরা সর্বোচ্চ ৩০% টাকা সরাসরি বিদেশি মুদ্রার (Retention Quota) অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে পারবেন।


ডুয়াল কারেন্সি ফ্রিল্যান্সার কার্ড: ফ্রিল্যান্সিং আয়ের টাকা দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সহজে খরচের জন্য ব্যাংকগুলো এখন বিশেষ "Freelancer Cards" ইস্যু করতে পারবে।


২. ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (DVA) হলো একটি স্টোরড-ভ্যালু ডিজিটাল ওয়ালেট, যা পেপ্যাল বা পায়োনিয়ারের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যাংকগুলোর পার্টনারশিপের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। 


পেপ্যালের একাউন্ট তৈরি, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নতুন ফ্রেমওয়ার্ক কিংবা ফ্রিল্যান্সিং পেমেন্ট পদ্ধতি

অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম (যখন বাণিজ্যিকভাবে ব্যাংকগুলো চালু করবে): 


ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন: গ্রাহককে এই অ্যাকাউন্ট সরাসরি পেপ্যাল অ্যাপে নয়, বরং পার্টনার দেশীয় ব্যাংকের অ্যাপ বা শাখার মাধ্যমে খুলতে হবে Bangladesh Bank clears way for banks to partner with PayPal, Payoneer।


ব্যাংক-নিয়ন্ত্রিত লিংক: প্রতিটি ব্যক্তিগত DVA অ্যাকাউন্ট সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একটি মূল 'মাস্টার অ্যাকাউন্ট' বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত থাকবে Bangladesh Bank clears way for banks to partner with PayPal, Payoneer। নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য এটি ব্যাংক নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবে।


প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: সাধারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ফ্রিল্যান্সার অ্যাকাউন্ট খোলার মতোই জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ফ্রিল্যান্সার আইডি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং আয়ের প্রমাণপত্র লাগবে Freelancers Bangladesh – Freelancers.gov.bd – Official.


DVA অ্যাকাউন্টের ব্যবহারের নিয়ম:আন্তর্জাতিক খরচ: এই ওয়ালেটের টাকা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রবাস ভ্রমণ, হোটেল বুকিং, ভিসা ফি এবং মেম্বারশিপ ফি দেওয়া যাবে।


অনলাইন কেনাকাটা: ই-কমার্স সাইট থেকে যেকোনো কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রতি ট্রানজেকশনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ করা যাবে।


ফান্ড সোর্স: এই অ্যাকাউন্টে টাকা মূলত ফ্রিল্যান্সারদের রিটেনশন কোটা (RQ) অ্যাকাউন্ট কিংবা রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (RFCD) অ্যাকাউন্ট থেকে আসবে।


পরবর্তী করণীয়: যেহেতু নীতিমালাটি একদম নতুন, তাই বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করতে ব্যাংকগুলোর কিছু প্রযুক্তিগত ও চুক্তিভিত্তিক প্রস্তুতির সময় লাগবে। সেবাটি ব্যবহারের জন্য আপনি আপনার ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ রেখে আপডেট জেনে নিতে পারেন।


#পেপ্যাল

#গেটওয়ে_পেপ্যাল

No comments:

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত দিন

Note: Only a member of this blog may post a comment.